রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৩

নীল ডুমুরের খেয়া


কুয়াশার পর্দা ভেদ করে আজকের সূর্যটা উঠতে সময় নিল বেশ। ততক্ষণে আড়মোড়া ভেঙে বেড়িবাঁধের কুকুরগুলো কয়েকটি চক্কর দিয়েছে নতুন গজিয়ে ওঠা বাজারের এমাথা ওমাথা। লিটনের দোকানের চায়ের কেতলিতে পানি সবে ডগমগ করে গরম বাষ্প বের করতে শুরু করেছে। ছোট ছোট জটলার মধ্যমণি হয়ে এখনো জ্বলছে কিছু আগুনের কুণ্ডলী। কয়েকটি জেলে নৌকা ঘাট ছেড়ে চলে যাচ্ছে মাঝ নদীতে। নদীর বাঁকে বাঁকে চরের আস্তরণ জুড়ে এখনো জাঁকিয়ে আছে কুয়াশা। সূর্যের তেজ ওদের তাড়াতে পারেনি। ইসলাম মাঝির কুয়াশাভেদী চোখে কিছু ধরা পড়ে। ডাকে আরো দুজনকে। কানাঘুষা চলে। একমত হয়-একটা জাহাজ। সে বার এমনি এক জাহাজ আটকা পড়েছিল চরে। আশপাশের শত শত মানুষ সেই জাহাজ থেকে মালামাল নিয়ে গিয়েছিল বাড়িতে।

আরো একটি ট্রলার ধরা পড়ে ইসলামের চোখে। ট্রলারটি নদীর এপাড়ে বাঁধা। ঘাট থেকে দূরে। নিরিবিলিতে। দরজা-জানালা বন্ধ। ভেতরে মানুষের সাড়া নেই। নতুন আনকোড়া ট্রলারের সর্বাঙ্গে চাকচিক্যের জৌলুস। ইসলাম নিশ্চিত হয় ঢাকা থেকে বড় কোন অফিসার এসেছে বেড়িবাঁধ দেখার জন্য। স্থানীয় এমপি আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা বেড়িবাঁধের সব টাকা মেরে দিয়েছে। গত দু-বছর একটি ব্লকও ফেলা হয়নি। 

ওদিকে ফি বছর বর্ষা হা করে থাকে নতুন নতুন এলাকা গিলে খাওয়ার জন্য।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন